মঙ্গলবার ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


রাঙ্গাবালীতে প্রভাবশালীর দখলে পোশাক শ্রমিকের ভিটেবাড়ি!

প্রকাশিত : ০৪:০৮ অপরাহ্ণ, ২২ জুলাই ২০২০ বুধবার 70 বার পঠিত

এম সোহেল প্রকাশক ও সম্পাদক:

নাজমা বেগম পেশায় পোশাক শ্রমিক। পনের বছর আগে অভাবের সংসারে হাল ধরতে ঢাকার পথে পাড়ি জমিয়েছেন। খেয়ে না খেয়ে রাত-দিন এক করে কিছু টাকা জমিয়েছেন। একটা ছোট্ট বাড়ির জন্য জায়গা কিনবে বলে দেশের বাড়িতে থাকা ছোট বোন আছমার কাছে টাকা পাঠিয়েছেন। বড় বোনের জমানো টাকায় ২০১২ সালে ৭০শতাংশ জমি সাব কবলা করে বাড়ি আর পুুকুর খনন করা হয়। কিন্তু কে জানতো সেই বাড়ি আর পুকুরের ওপর জমি খেকোদের নজর পড়বে। পোশাক শ্রমিক নাজমার সম্পদ রক্ষার্থে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির দারস্থ হয়েছেন কিন্তু কোন সুরহা মেলেনি। ঘটনাটি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন গ্রামের।
জানাগেছে, নাজমা পোশাক শ্রমিক হিসেবে ঢাকায় কাজ করছেন। প্রায় তার গ্রামের বাড়ি চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন গ্রামে। জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৩ জানুয়ারি চরবেষ্টিন মৌজায় অবস্থিত ৭০ শতাংশ জমি কিনেছেন নাজমা ও তার স্বামী জাহাঙ্গীর সরদার। নিজেদের মাথাগোঁজার জন্য ওই জমিতে ভিটেবাড়ি গড়েন। নাজমার স্বামী জাহাঙ্গীর সরদার অস্বচ্ছল। ছেলেসহ তিন সদস্যের সংসারে রোজগারের সদস্য নাজমা একাই। নিজ গ্রামে থেকে কোন আয় রোজগার না থাকায় অনেক বছর আগে শহরে পাড়ি জমিয়েছিল নাজমা। আর এই সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী বাচ্চু খন্দকার ও তার ভাই হানিফ খন্দকার মিলে নাজমাদের ভিটেবাড়ি দখল করে নেয়। একপর্যায় ওই ভিটেবাড়িতে টিনশেড স্থাপনা করা হয়। জমি রক্ষায় এগিয়ে আসলে নাজমার বোন আসমা রোষানালে পরে জমি দখলদারদের।
জমি দখলমুক্ত করতে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রæয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপজেলা পর্যায়ের গণশুনানি এবং ১৮ মার্চ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করে নাজমার বোন আসমা বেগম। এরআগেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্যদের সমন্বয়ে একাধিক সালিশ বৈঠক হয়। কিন্তু কোন সুরহা হয়নি।
বিচারপ্রার্থী নাজমা বেগম ও তার বোন আসমা বেগম বলেন, ‘জমি দখল করার পরেও নানাভাবে বাচ্চু ও হানিফ খন্দকার আমাদের ওপর হামলা করেছে। নানাভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। আমরা আমাদের জমি দখলমুক্ত পেতে প্রশাসনের সহায়তা কামনা করছি।’ সব অস্বীকার করে অভিযুক্ত বাচ্চু খন্দকার বলেন, ‘আমার জমিতে আমি আছি। আমার কাগজপত্রও আছে। আমি কারও জমি দখল করিনি। অহেতুক আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে।’ চরমোন্তাজ ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ মিয়া বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছে। একাধিকবার সালিশও হয়েছে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রশাসন ছাড়া সম্ভব নয়।’
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD