মঙ্গলবার ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


পঞ্চগড় জেমজুটে শ্রমিক ঠিকাদারের দরপত্র নিয়ে দুই ঠিকাদারের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত -২

প্রকাশিত : ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ, ৯ আগস্ট ২০২০ রবিবার 88 বার পঠিত

মোঃ রাশেদুল ইসলাম পঞ্চগড় প্রতিনিধি:

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ময়দান দীঘি  এলাকায় জেমজুট লিমিটেডের  শ্রমিক ঠিকাদারের দরপত্রের জের ধরে অখিল চন্দ্র রায় নামে এক ঠিকাদার ও তার লোকজনের উপর হামলা ও  মারধর করেছে ইউনুস আলী নামে আরেক ঠিকাদার।  এঘটনায়  ঠিকাদার অখিল চন্দ্র রায়সহ দুইজন আহত হয়েছে। বর্তমানে তারা বোদা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স এ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
বুধবার ( ৫- আগস্ট) সকাল  ১০টায় বোদা উপজেলার ময়দানদীঘি জেমজুট মিলের প্রধান গেটের সামনে  ইউনুস আলী নামে ওই ঠিকারদার ও  তার ছোট ভাই সেনাবাহিনীর সদস্য জিয়াউল হকসহ প্রায় ৩০/৪০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অখিল চন্দ্র রায় ও তার পরিবারের ওপর  হামলা চালায়। তাদের হামলায় অখিল চন্দ্র ও তার পরিবারের সদস্য ললিতা রানী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। বোদা থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে আসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এবং গুরুত্বর আহত অবস্থায় অখিল চন্দ্র ও ললিতা রানীকে পুলিশ ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স এ নিয়ে ভর্তি করে। তাদের অবস্থায় আশংকাজনক । বর্তমানে তারা ২ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী ঠিকাদার অখিল চন্দ্র রায় ইউনুস আলী ও তার তিন ভাইসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের নামে বোদা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত ঠিকাদার ইউনুস আলী ,জিয়াউল হক ও রেজাউল হক তারা তিন  ভাই। তারা জেলার বোদা উপজেলার ময়দান দিঘী ইউনিয়নের আরাজী গাইঘাটা এলাকার  মৃত নবীর উদ্দীনের ছেলে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায,অখিল চন্দ্র রায় ও ইউনুস আলী দীর্ঘদিন ধরে জেমজুট লিমিটেড (জুট মিলে) ঠিকাদারী ব্যবসা করে আসছিল এবং ইউনুস আলী ও অখিল চন্দ্র রায়ের সাথে ঠিকাদারি ব্যবসা নিয়ে  হঠাৎ করে বিরোধ সৃষ্টি হলে আজ বুধবার সকালে ইউনুস আলী ও অখিল চন্দ্র রায়ের সাথে হঠাৎ জেমজুট মিলের প্রধান গেটের সামনে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইউনুস আলী ও তার ছোট ভাই সেনা সদস্য জিয়াউল হকসহ ৩০/৪০ জন লোক  অখিল চন্দ্রসহ তার পরিবারের সদস্যদের উপর  দেশীয় অস্ত্র নিয়ে  অতর্কিত ভাবে হামলা ও মারধর করে।
এসময় অখিলের পরিবারের লোকজন অখিলকে রক্ষা করার  জন্য দ্রুত ঘটনাস্থলে আসলে ইউনুস আলী ও তার লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়।  এসময়  স্থানীয়রা সাথে সাথে বোদা থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পুলিশ ও স্থানীয়রা অখিল ও তার  পরিবারের সদস্যদের রক্তাার্ত অবস্থায়  উদ্ধার করে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে এবং বর্তমানে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী আহত ঠিকাদার অখিল চন্দ্র রায় জানান, আমি দীর্ঘ দিন ধরে জেমজুট মিলে ঠিকাদারি ব্যবসা করে আসছি। হঠাৎ  ইউনুস আলী আমার ব্যবসা ধ্বংস ও আমাকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করে আমার ও আমার পরিবারের উপর হামলা চালিয়েছে।  আমি  ইউনুসসহ তার তিন ভাইয়ের শাস্তি দাবি করছি।  এদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদার ইউনুস আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া পাওয়া যায় তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  আবু হায়দার মোঃ আশরাফুজ্জামান জানান, সকালে জেমজুট এলাকা  দুই ঠিকাদারের মধ্যে  সংঘর্ষ হলে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তির করে।
এ ঘটনায় অখিল চন্দ্র রায় থানায় ইউনুস আলীসহ তার তিন ভাইয়ের নাম উল্লেক করে অজ্ঞাত ১০/১২ জনের নামে একটি এজাহার দায়ের করেছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD