শনিবার ০৬ মার্চ ২০২১, ২১শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে চাঁদপুরের এক কাউন্সিলর প্রার্থী কারাগারে

প্রকাশিত : ০৫:৪৩ অপরাহ্ণ, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ শনিবার 125 বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

 

১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে চাঁদপুরে আলমগীর হোসেন বাবু নামে আসন্ন চাঁদপুর পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। শহরের ষোলঘর নামক এলাকার বাসিন্দা এক গৃহবধূর দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলায় গত ২ সেপ্টেম্বর জামিন নিতে আদালতে হাজির হন আলমগীর। জামিন নামঞ্জুর করে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর মডেল থানার এস আই বিপ্লব চন্দ্র নাহ। তার তদন্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চাঁদপুর রেলওয়ে হকার্স মার্কেটে প্লট নং-এ/১৬৫ এর দোকানটির মালিক হাজী মো. ছিদ্দিকুর রহমান থেকে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ বছরের জন্য মাসিক ভাড়ায় নিয়ে কোকারিজের ব্যবসা পরিচালনা করতে থাকেন আলমগীর। কিন্তু নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করায় মালিক আলমগীরকে দোকান ছেড়ে দিতে বলেন। আলমগীর দোকান ছাড়তে না চাইলে চুক্তির মেয়াদ পর্যন্ত দোকানের মালিক অপেক্ষা করেন। কিন্তু মেয়াদ অতিক্রমের পরেও আলমগীর দোকানের দখল না ছাড়তে নানা টালবাহানা শুরু করেন। বিষয়টি মার্কেট কমিটির কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাদের অনুরোধে পরবর্তীতে আরও ২ বছরের জন্য আলমগীরকে পুনরায় ভাড়ার মেয়াদ বৃদ্ধি করতে মালিক রাজি হন। এই পর্যায়ের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও আলমগীর দোকান ছেড়ে না দিয়ে ফের প্রভাব খাটানো শুরু করেন। এমন পরিস্থিতিতে মার্কেট কমিটি পদক্ষেপ নিলে উপায়ন্তর না পেয়ে আলমগীর হোসেন ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারিতে মালামাল নিয়ে দোকান ছেড়ে চলে যায়। পরে মার্কেট কমিটির কর্মকর্তাবৃন্দ দোকানে তালা লাগিয়ে দেন। দোকান হাতছাড়া হওয়ার পর মার্কেট কমিটি ও দোকান মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে মালিককে দোকান দখলে বাধা দেন আলমগীর। এদিকে ইতিমধ্যে ওই দোকানের মালিক মারা যান। ওই দোকান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ হতে তার ৪ সন্তানের (মামলার সাক্ষী) নামে নামজারী করে নিয়ে আসা হয়। এরইমধ্যে মামলার বাদী এবং তার পরিবারের সকল সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন আলমগীর। এবং প্রভাব খাটিয়ে বাদীকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করতে থাকেন। এতেও কার্যসিদ্ধি না হলে বাদীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন আলমগীর। এই টাকা না পেলে বাদী ও সন্তানদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করলে আলগমীরের বিরুদ্ধে ৩৮৫/৫০৬ (২) ধারায় কোর্টে মামলা করেন বাদী বিধবা গৃহবধূ। এ মামলা প্রসঙ্গে বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবদুল হান্নান কাজী জানান, মামলাটির ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়া সত্ত্বেও মো. আলমগীর হোসেন পলাতক ছিলেন। এরপর তিনি পলাতক থাকা অবস্থায় আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. ফজলুল হক সরকার। এ বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, প্রতিশোধ নিতে মো. আলমগীর হোসেন বেশ কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এলাকায় বেপরোয়া চলাচল করতে শুরু করেন। তিনি মূলত মানুষকে জিম্মি করার চক্রান্তে মেতে উঠেছিলেন। শহরে তাকে অনেকেই বাটপার বলে সম্বোধন করে।

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD