রবিবার ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


নিহত শিশু জুবায়েরের বাড়ি রাঙ্গাবালীতে শোকের মাতম

প্রকাশিত : ০৬:০৭ অপরাহ্ণ, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ শনিবার 12 বার পঠিত

এম সোহেল প্রকাশক ও সম্পাদক:

বাবার সঙ্গে মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়েছিল শিশু জুবায়ের। কিন্তু কে জানতো এটাই তার জীবনের শেষ নামাজ হবে! নিভে যাবে জীবন প্রদীপ। শুক্রবার এশার নামজের সময়কালীন নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাম মসজিদে বিস্ফোরণে জুবায়ের (৭) মারা যায়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুত্বর আহত হয় তার বাবা সলেমান জুলহাস (২৮)। বর্তমানে তিনি শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান পরিবার সদস্যরা।
নিহত জুবায়েরের বাবার বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের বাহেরচর বাজারে এবং মা রাহিমা বেগমের বাড়ি একই ইউনিয়নের গন্ডাদুলা গ্রামে। এদিকে, শুক্রবার রাত ১ টায় শিশু জুবায়েরের মৃত্যুর খবর শুনে নানা বাড়ি ও দাদা বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ওই এলাকার আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা গেছে, জুবায়েরের দাদা বাড়ি বাহেরচর বাজারে আত্মীয়-স্বজনদের কান্নার রোল চলছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে জুবায়েরের দাদি সালেহা বেগম বলেন, ‘কোরবানির এক সপ্তাহ পর জুবায়ের ঢাকা বাবা-মায়ের কাছে যায়। বাবার সঙ্গে ও (জুবায়ের) নামাজ পড়তো। মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে আমার আদরের সেই নাতি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। রাত ১ টায় হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। আমার ছেলে জুলহাস মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। তার জন্য সকলে দোয়া করেন। আমার বুকের মানিকরে যেন আল্লাহ ফিরিয়ে দেয়।’
শনিবার বিকেল ৪ টায় নিহত জুবায়েরের মা রাহিমা বেগম মুঠোফোনে বলেন, তার ছেলে জুবায়েরের লাশ তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা থেকে লাশ নিয়ে তিনি রাঙ্গাবালীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। রাঙ্গাবালীতেই ছেলের লাশ দাফন হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। আর তার স্বামীর অবস্থাও খারাপ বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, ১০ বছর আগে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ঢাকায় পাড়ি জমান জুলহাস-রাহিমা দম্পতি। তারা দু’জনই নারায়ণগঞ্জে পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। ওই শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায় তারা বসবাস করতো। সেখানকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রেণীতে তাদের ছেলে নিহত জুবায়ের লেখাপড়া করতো।

ছবির ক্যাপশনঃ (১) নিহত জুবায়েরের ছবি, (২) নিহত জুবায়েরের দাদা বাড়ি শোকে নীবর-নিস্তবদ্ধ।

 

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD