রবিবার ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


সন্তানের লাশ দাফনের সময় খবর আসে বাবাও নেই!

প্রকাশিত : ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ সোমবার 85 বার পঠিত

এম সোহেল প্রকাশক ও সম্পাদক:

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণে ঘটনায় রাঙ্গাবালীর শিশু জুবায়েরের লাশ গ্রামের বাড়ি এসে পৌঁছেছে তখন। জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতি চলছিল। ঠিক এমন সময় খবর আসে, তার বাবা জুলহাসও না ফেরার দেশে চলে গেছেন। হৃদায়বিদারক এ খবরে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে শোকের মাত্রা বেড়ে যায়। আহাজারিতে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের শুক্রবার এশার নামাজ আদায় করতে নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বাইতুস সালাম মসজিদে যান। সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনায় বাবা ও ছেলে অগ্নিদগ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দু’জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইউনিটে নেওয়া হলে ওইদিন রাত ১ টায় ৭ বছরের শিশু জুবায়ের মারা যায়। আর চিকিৎসাধীন বাবার অবস্থাও ছিল আশঙ্কাজনক। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিল।
এদিকে, জোবায়েরর মৃৃতদেহ তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের পর রোববার ভোরে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর গ্রামে এসে পৌঁছায়। লাশ দাফন কাফনের প্রস্তুতিকালে খবর আসে, তার বাবা সলেমান জুলহাসও (২৮) মারা গেছেন। এমন খবরে তাদের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে শোকের মাত্রা যেন পাহাড়সমান বেড়ে যায়।
রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়ির উঠোনে মাটিতে লুটিয়ে বিলাপ করছে স্বামী-সন্তানহারা রাহিমা বেগম। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে ও নাতির শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে আছে জুলহাসের মা। এসময় আহাজারি করে রাহিমা বেগম বলছিল, ‘স্বামী-ছেলে সব হারিয়েছে সে। তার আর কেউ রইল না।’ স্থানীয়রা জানায়, ছোটবেলায় জুলহাসের বাবা বাচ্চু ফরাজী মারা যান। মায়ের সংসারের খরচ জুলহাসকেই বহন করতে হতো। অভাব-অনটনের সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিল জুলহাস। বিয়ে করার পর আরও সংকটে পড়ে। তাই ১০ বছর আগে স্ত্রীসহ ঢাকায় পাড়ি জমায় সে। সেখানে পোশাক শ্রমিকের কাজ করতো জুলহাস। বসবাস করত নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকায়। সেখানকার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রেণীতে এবার জুবায়েরকে ভর্তি করায়।
এদিকে, জুলহাস ও তার ছেলে জুবায়ের ছাড়াও নারায়নগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণের ওই ঘটনায় রাঙ্গাবালীর আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহত অন্যরা হলেন, ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কাউখালী গ্রামের বেলায়েত রাঢ়ীর ছেলে পোশাক শ্রমিক জামাল রাঢ়ী (৪০) ও সদর ইউনিয়নের হাপুয়াখালী গ্রামের সাজাহান প্যাদার ছেলে পোশাক শ্রমিক নিজাম প্যাদা (৩৫)। তাদের মধ্যে শিশু জুবায়ের, জামাল রাঢী ও নিজামের লাশ নিজ বাড়িতে পৌঁছানের পর নামাজে জানাজা শেষে দাফন কাজ দুপুরের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা যায়। শুধু জুবায়েরের বাবা জুলহাসের লাশ ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। অপরদিকে এক উপজেলায় চারজনের মৃত্যুতে আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ বলেন, চারজনের মৃত্যুর খবর প্রাথমিকভাবে শুনেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। জেলা প্রশাসক মহোদয়কে নিহতদের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD