মঙ্গলবার ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


যান্ত্রিকতার ছোঁয়ায় হালচাষে নেই পরিবেশ বান্ধব লাঙল-জোয়ালের ব্যবহার

প্রকাশিত : ০৭:৪৮ অপরাহ্ণ, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ রবিবার 43 বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :

 

নিয়ামুর রশিদ শিহাব
‘গোলা ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ ও গোয়াল ভরা গরু’। এ যেন গ্রাম বাংলার কৃষক পরিবারের প্রাচীন ঐতিহ্য। বলদ গরু আর লাঙল ছাড়া এমন কোনো গ্রামই ছিল না। বাংলার ঐতিহ্যের স্মারক হলো লাঙল-জোয়াল। বর্তমানে আধুনিকতা ও যান্ত্রিকতার ছোয়ায় সেই ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে।
জানা যায়, যুগ যুগ ধরে কৃষি ঐতিহ্যের ধারক হয়ে আছে লাঙল-জোয়াল। কাকডাকা ভোরে গ্রামবাংলার কৃষকরা মরিচ পোড়া দিয়ে পানি দেয়া ভাত(পান্তাভাত) খেয়ে গরু, লাঙল, জোয়াল ও মই কাঁধে নিয়ে জমি হাল চাষের উদ্দেশ্যে বের হতো। লাঙল তৈরি হতো দু’ধরনের কাঠ দিয়ে। যেকোনো শক্ত কাঠের সঙ্গে দরকার হতো তালকাঠের। লাঙলের ফলা বিঁধিয়ে কর্ষণ করা হতো মাটি। আর লাঙলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য দড়িযুক্ত জোয়াল দুই গরুর কাঁধে রাখা হয়। কৃষকের এক হাতে লাঙল আর অন্য হাতে পাঁচন। গরু শাসনের লাঠিকে চাষিরা পাঁচন বলে। গরু হাঁটতে শুরু করলেই লাঙলের ইশ(ফলা) বিঁধে যায় মাটিতে। এভাবে জমি চাষ করা হতো। জমি চাষের কাজে কৃষক কিছুদিন আগেও এসব কাঠের তালের তৈরি লাঙল, জোয়াল, মই এবং হালের বলদ ব্যবহার করত। চাষাবাদের এসব কৃষি উপকরণ মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে ব্যবহার করে এসেছে। এছাড়া ফসল মাড়াই করার জন্য গরু ব্যবহার করা হতো। এসব দৃশ্য বছর কয়েক আগেও দেখা গেছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে এসবের ব্যবহার আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। যান্ত্রিকতার আগ্রাসনে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে গরুর হাল। লাঙল-জোয়াল আর জোড়া গরু নিয়ে মাঠে যেতে আর তেমন দেখা যায় না কৃষকদের। পরিবেশবান্ধব লাঙল-জোয়ালের জায়গা দখল করে নিয়েছে যান্ত্রিক পাওয়ার টিলার আর ট্রাক্টর। এসব আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে চাষাবাদে যেমন সময়, শ্রম কম লাগে ও তেমনি অর্থের সাশ্রয় হয়। ফলে কৃষক আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার করে চাষাবাদ করায় গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী লাঙল, জোয়াল, মই ও হালের বলদ।
কৃষিবিদদের মতে, লাঙল-জোয়াল বলদের কাঁধে বসিয়ে হালচাষ করার পদ্ধতি পরিবেশবান্ধব। গরুর গোবর থেকে নির্ভেজাল জৈবসার পাওয়া যায়। এ সার জমির উর্বরা শক্তি ও পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি করে। ফলে রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না বলেই এ পদ্ধতি কৃষকের জন্য লাভজনক ও পরিবেশ সহায়ক। তবে গরুর লাঙলের তুলনায় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে হালচাষে সময় কম লাগে। এ ছাড়া অতিরিক্ত জনবলেরও প্রয়োজন হয় না। এ পদ্ধতির হালচাষে কৃষক নিজেদের অনেকটাই ঝামেলামুক্ত মনে করেন বলে এটাকে বেছে নিচ্ছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে কমে যাচ্ছে বসত ভিটির অংশ, সেই সাথে কমছে কৃষি জমির পরিমানও। এখন আধুনিকতার ছোয়া এবং কৃষি জমির স্বল্পতার কারনে গরু পালন ছেড়ে দিয়েছে অনেক কৃষক। এখন কৃষি কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে পাওয়ার টিলার, ট্রাক্টর, ধান মাড়াই মেশিন, হার্ভেষ্টার, কীটনাশক ছিটানোর মেশিন ও সার প্রয়োগের মেশিনসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নত ও অত্যাধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি। তাই খুব তাড়াতাড়ি বিলুপ্তের খাতায় নাম উঠে যাবে লাঙল, জোয়াল, মই ও হালের বলদের।

শিক্ষার্থী
বরিশাল পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD