শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


জাহাজমারা সৈকতের তীরে ভেসে এলো মৃত ডলফিন!

প্রকাশিত : ০৮:৩২ অপরাহ্ণ, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ রবিবার 16 বার পঠিত

এম সোহেল প্রকাশক ও সম্পাদক:

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জাহাজমারা সৈকতের বালুচরের বীচে বিশাল আকৃতির একটি মৃত ডলফিন পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জোয়ারে ভেসে এসে বালুচরে আটকা পড়েছে মৃত ডলফিনটি।

জানাগেছে, পৃথিবীজুড়ে বিপন্নপ্রায় প্রজাতির ডলফিন ইরাবতী। দেশের উপকূলীয় সমুদ্রসীমার নোনা জলে এদের আবাসস্থল ও বিচরণ। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার জাহাজমারা সমুদ্র সৈকতের তীরের বালুচরে ভেসে এসেছে এমন প্রজাতির একটি ডলফিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডলফিনের সকল প্রজাতির মধ্যে ইরাবতী গুরুত্বপূর্ণ। প্রতাজিগতভাবে স্তন্যপায়ী হলেও এই প্রজাতির ডলফিনের সঙ্গে মানুষের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। মানুষের মতই এদের রক্ত গরম। একটি পরিবারের মতোই নদ-নদী ও সাগরে দলবেঁধে বিচরণ করে। একটি জরিপের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশে ডলফিন টিকে আছে। কিন্তু ডলফিনের বসতি এলাকায় মানুষের যে উৎপাত বেড়েছে, এতে ভবিষ্যতে ডলফিন টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

স্থানীয়রা বলেছেন, জেলেদের জালে আটকা পড়ে ৩-৪ দিন আগে ডলফিনটি মারা যেতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন। জাহাজমারা সংলগ্ন ভূইয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে এইটা (ডলফিন) জাহাজমারা পড়ে থাকতে দেখেছি। রাতে শিয়াল-কুকুরে হানাও দিয়েছে মনে হয়।
এ ব্যাপারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী যুগান্তরকে বলেন, ইরাবতী ডলফিন সারা পৃথিবীতে একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতি। একমাত্র বাংলাদেশেই এই প্রজাতিটি সর্বোচ্চ পরিমাণ পাওয়া যায়, সেহেতু এদের রক্ষার জন্য আমাদের এগিয়ে আসা দরকার। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রশাসনের মাধ্যমে মেরিন প্রটেক্টেড অঞ্চল করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি জনগণ ও জেলেদের সচেতনতার জন্য কর্মসূচি হাতে নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি যুগান্তরকে আরও বলেন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী তিমি বা ডলফিন হত্যার দায়ে কেউ অভিযুক্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা তিন লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড হতে পারে। তিমি বা ডলফিনের দেহাবশেষ সংগ্রহ করলে তার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের সাজা অথবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড হতে পারে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD