শুক্রবার ২৭ নভেম্বর ২০২০, ১২ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ


সেতুতে গর্ত, পারাপারে ঝুঁকি!

প্রকাশিত : ০৭:৫৬ অপরাহ্ণ, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ সোমবার 9 বার পঠিত

এম সোহেল প্রকাশক ও সম্পাদক:

দুই দশক আগে নির্মিত সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে অনেক আগেই। দু’প্রান্তে দু’টি বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, রডগুলো বেড়িয়ে আছে। লোহার ভিম ও পাতগুলোতে ধরেছে মরিচা। কোথাও আবার ভেঙে আছে। শুধু তাই নয়, সেতুতে ওঠা নামার সংযোগ সড়টিও নাজেহাল অবস্থা। একটু অসতর্কতার কারণে যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে অনাকাঙ্খিত দুর্ঘটনা।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের পশ্চিম নেতা ও গন্ডাদুলা গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া রুপাইর খালের ওপর নির্মিত সেতুটির এমন চিত্র দেখা গেছে। পথযাত্রীরা জানায়, একটি মটরসাইকেল পারাপার হলেও সেতুটি কেঁপে ওঠে। তবুও কাছাকাছি বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ৬ গ্রামের মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু পারাপার হতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫-৯৬ সালে রুপাইর খালের ওপর আয়রণ সেতু নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছর আগে একবার সেতুটির সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু আবার সেতুটির দুইটি অংশে দুটি গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সেতুটি।

স্থানীয়রা বলেছেন, প্রায় দুই যুগ আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন অন্তত কয়েক হাজার লোক পারাপার হয়। উপজেলার গঙ্গিপাড়া, সামুদাবাদ, পুলঘাট, নেতা, জুগির হাওলা ও উনিশ নম্বর গ্রামের মানুষকে এই সেতু দিয়ে পারাপার হয়ে উপজেলা সদরে যেতে হয়। কিন্তু সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরায় বিপাকে পড়েছেন তারা। ফলে অনেকে বিকল্প পথে কয়েক কিলোমিটার সড়ক ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়।

পশ্চিম নেতা গ্রামের বাসিন্দা রুবেল হাওলাদার বলেন, এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ পারাপার হয়। কিন্তু একটা মটরসাইকেল ওঠলেই সেতু থরথর করে কেঁপে ওঠে। দিনে কোন রকম মটরসাইকেল চলাচল করলেও রাতে সেতু পার হওয়ার সময় খুবই সতর্ক থাকতে হয়। রাতের বেলায় অসতর্কতার অনেক পথচারী প্রায়ই আহত হয়। এভাবে সেতুটি পড়ে থাকলে একদিন বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

গন্ডাদুলা এম এইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোসাঃ তাহমিদা সুলতানা বলেন, করোনার আগে সেতুটির ওপার অর্থাৎ দক্ষিণ পাড় থেকে প্রায় ৮৫জন কচিকাঁচা শিশুকে দৈনিক আমার বিদ্যালয় যাতায়াত করতো। কিন্তু সেতুটি সংস্কার নাহলে যেকোন মুহুর্তে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ওই সেঁতুটি অনেক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। বর্তমানে ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করবো।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুল কবির বলেন, দুইটি প্রকল্পে ওখানে একটি ব্রিজ (সেতু) নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে । ইতোমধ্যে সয়েল টেস্ট ও মাপ শেষ হয়েছে। আশা করি শিগগিরই হয়ে যাবে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সেতুটির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলজিইডিকে অবহিত করা হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি দর্পণ বাংলা'কে জানাতে ই-মেইল করুন। আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

দর্পণ বাংলা'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

বিজ্ঞাপন

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। দর্পণ বাংলা | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি | Developed by UNIK BD